বর্তমান যুগে ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজের ব্যাপারে মানুষের মাঝে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ কেউ তো ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজকে একেবারে অস্বীকার করে এবং এ সকল কাজকে না-জায়িয, হারাম এমনকি শিরক ও মনে করে। অপর দিকে কেউ কেউ তাবীয-কবজে এতটাই বিশ্বাসী যে, তাবীয-কবজকে স্বয়ংক্রিয় ও নিজস্ব কার্যক্ষমতার অধিকারী মনে করে এবং প্রতিটি কাজেই তাদের একটি তাবীয কাম্য। অথচ উল্লেখিত উভয়পন্থার কোনটিই সঠিক নয়। বরং তাবীয-কবজকে উসীলা মনে করে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে আমল করাই হল একমাত্র সহীহ তরীকা। (সূত্র: জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানী দা.বা. মুর্জারাবাতে আকাবির: পৃ: ৪৫) শরী‘আতের দৃষ্টিতে রোগ হলে যেমন ঔষধ ব্যবহার করা বৈধ, তেমনি রোগ-বালাই ও বিভিন্ন সমস্যায় দু’আ-দুরূদের ব্যবহারও শরী‘আত-সম্মত। কুরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ ও আল্লাহর নাম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। (সূত্র: মিরকাতুল মাফাতীহ: পৃ: ৮/৩৬) তদ্রূপ কুফরী ও শিরকী থেকে খালী কোন নকশা বা শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করাও জায়েয। পক্ষান্তরে কুফর ও শিরক মিশ্রিত নকশা বা শব্দ অথবা অর্থ বুঝে আসেনা এমন শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করা না-জায়িয। (সূত্র: তাকমিলাতু ফতহিল মুলহিম: পৃ: ৪/৩২৫ হাদীস নং ৫৬৮৮) আর তাবীয ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এগুলোর নিজস্ব কোন কার্যক্ষমতা নেই। (সূত্র: বজলুল মাজহূদ: পৃ: ১১/৬১২ হাদীস নং ৩৮৮৩) এগুলো উসীলা মাত্র। বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. ঝাড়-ফুক করতেন। বাকী যে সকল হাদীসে তাবীয-কবজকে শিরক বলা হয়েছে, তার ক্ষেত্র হল শুধু ঐ সকল তাবীয যাতে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে। যেমনটি ছিল জাহিলী যুগের তাবীয-কবজে। (সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ১/১৭৯) অথবা যে ক্ষেত্রে তাবীয-কবজকেই কার্যকরী বিশ্বাস করা হয়। তাবীয কে উসীলা বিশ্বাস করে নয়। এমন বিশ্বাস নিয়ে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা করানোও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাবীয-কবজ নয়।
বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮
তাবীজ-কবজ ও ঝাড়-ফুঁক সম্বন্ধে আক্বিদা বা বিশ্বাস
শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক দা.বা.
বর্তমান যুগে ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজের ব্যাপারে মানুষের মাঝে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ কেউ তো ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজকে একেবারে অস্বীকার করে এবং এ সকল কাজকে না-জায়িয, হারাম এমনকি শিরক ও মনে করে। অপর দিকে কেউ কেউ তাবীয-কবজে এতটাই বিশ্বাসী যে, তাবীয-কবজকে স্বয়ংক্রিয় ও নিজস্ব কার্যক্ষমতার অধিকারী মনে করে এবং প্রতিটি কাজেই তাদের একটি তাবীয কাম্য। অথচ উল্লেখিত উভয়পন্থার কোনটিই সঠিক নয়। বরং তাবীয-কবজকে উসীলা মনে করে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে আমল করাই হল একমাত্র সহীহ তরীকা। (সূত্র: জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানী দা.বা. মুর্জারাবাতে আকাবির: পৃ: ৪৫) শরী‘আতের দৃষ্টিতে রোগ হলে যেমন ঔষধ ব্যবহার করা বৈধ, তেমনি রোগ-বালাই ও বিভিন্ন সমস্যায় দু’আ-দুরূদের ব্যবহারও শরী‘আত-সম্মত। কুরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ ও আল্লাহর নাম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। (সূত্র: মিরকাতুল মাফাতীহ: পৃ: ৮/৩৬) তদ্রূপ কুফরী ও শিরকী থেকে খালী কোন নকশা বা শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করাও জায়েয। পক্ষান্তরে কুফর ও শিরক মিশ্রিত নকশা বা শব্দ অথবা অর্থ বুঝে আসেনা এমন শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করা না-জায়িয। (সূত্র: তাকমিলাতু ফতহিল মুলহিম: পৃ: ৪/৩২৫ হাদীস নং ৫৬৮৮) আর তাবীয ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এগুলোর নিজস্ব কোন কার্যক্ষমতা নেই। (সূত্র: বজলুল মাজহূদ: পৃ: ১১/৬১২ হাদীস নং ৩৮৮৩) এগুলো উসীলা মাত্র। বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. ঝাড়-ফুক করতেন। বাকী যে সকল হাদীসে তাবীয-কবজকে শিরক বলা হয়েছে, তার ক্ষেত্র হল শুধু ঐ সকল তাবীয যাতে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে। যেমনটি ছিল জাহিলী যুগের তাবীয-কবজে। (সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ১/১৭৯) অথবা যে ক্ষেত্রে তাবীয-কবজকেই কার্যকরী বিশ্বাস করা হয়। তাবীয কে উসীলা বিশ্বাস করে নয়। এমন বিশ্বাস নিয়ে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা করানোও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাবীয-কবজ নয়।
বর্তমান যুগে ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজের ব্যাপারে মানুষের মাঝে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউ কেউ তো ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবজকে একেবারে অস্বীকার করে এবং এ সকল কাজকে না-জায়িয, হারাম এমনকি শিরক ও মনে করে। অপর দিকে কেউ কেউ তাবীয-কবজে এতটাই বিশ্বাসী যে, তাবীয-কবজকে স্বয়ংক্রিয় ও নিজস্ব কার্যক্ষমতার অধিকারী মনে করে এবং প্রতিটি কাজেই তাদের একটি তাবীয কাম্য। অথচ উল্লেখিত উভয়পন্থার কোনটিই সঠিক নয়। বরং তাবীয-কবজকে উসীলা মনে করে কুরআন-হাদীসে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে আমল করাই হল একমাত্র সহীহ তরীকা। (সূত্র: জাস্টিস মুফতী তাকী উসমানী দা.বা. মুর্জারাবাতে আকাবির: পৃ: ৪৫) শরী‘আতের দৃষ্টিতে রোগ হলে যেমন ঔষধ ব্যবহার করা বৈধ, তেমনি রোগ-বালাই ও বিভিন্ন সমস্যায় দু’আ-দুরূদের ব্যবহারও শরী‘আত-সম্মত। কুরআনের আয়াত, হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ ও আল্লাহর নাম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক ও তাবীয ব্যবহার করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয। (সূত্র: মিরকাতুল মাফাতীহ: পৃ: ৮/৩৬) তদ্রূপ কুফরী ও শিরকী থেকে খালী কোন নকশা বা শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করাও জায়েয। পক্ষান্তরে কুফর ও শিরক মিশ্রিত নকশা বা শব্দ অথবা অর্থ বুঝে আসেনা এমন শব্দ দ্বারা তৈরী তাবীয ব্যবহার করা না-জায়িয। (সূত্র: তাকমিলাতু ফতহিল মুলহিম: পৃ: ৪/৩২৫ হাদীস নং ৫৬৮৮) আর তাবীয ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এগুলোর নিজস্ব কোন কার্যক্ষমতা নেই। (সূত্র: বজলুল মাজহূদ: পৃ: ১১/৬১২ হাদীস নং ৩৮৮৩) এগুলো উসীলা মাত্র। বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা. ঝাড়-ফুক করতেন। বাকী যে সকল হাদীসে তাবীয-কবজকে শিরক বলা হয়েছে, তার ক্ষেত্র হল শুধু ঐ সকল তাবীয যাতে শিরকী ও কুফরী কথা রয়েছে। যেমনটি ছিল জাহিলী যুগের তাবীয-কবজে। (সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ১/১৭৯) অথবা যে ক্ষেত্রে তাবীয-কবজকেই কার্যকরী বিশ্বাস করা হয়। তাবীয কে উসীলা বিশ্বাস করে নয়। এমন বিশ্বাস নিয়ে এ্যালোপ্যাথিক, হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা করানোও শিরকের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তাবীয-কবজ নয়।
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন